রামাদান এর তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তি দূর

Masud

MMI Adam
Staff member
Nov 10, 2019
181
6
18
Saudi Arabia
মুসলিম উম্মাহ'র তারিখ নির্ধারণ করতে হবে চাঁদ দেখে

মহান আল্লাহ বলেন,
"তারা তোমাকে নতুন চাঁদ সমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। তুমি বলো, (নতুন চাঁদ সমূহ) তা মানুষের জন্য সময় নির্ধারক এবং হাজ্বের সময়েরও (তারিখ) নির্ধারক।"
- সূরা বাকারাহ, আয়াতঃ ১৮৯​

এ আয়াত দ্বারা সুষ্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে, মানব জাতিকে চাঁদের হিসেবে তারিখ ও হাজ্বের তারিখ নির্ণয় করতে হবে।

রোজা ও ঈদ পালনের জন্য চাঁদ দেখা জরুরী

(ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত) রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেছেন,
"তোমরা চাঁদ দেখে রোজা পালন কর এবং চাঁদ দেখে ঈদ উদযাপন কর। যদি চাঁদ গোপন থাকে তবে ৩০ পূর্ণ কর।"
তিরমিযী-৬৮৮, বুখারী-১৭৮৫, নাসায়ী-২১১৭, ২১১৮, ২১১৯, ২১২২, ২১২৩, সহীহ মুসলিম-৬৮১, ইবনে মাজাহ-১৬৫৫
এই হাদিস থেকে বুঝা যায় যে, রোজা ও ঈদ পালনের জন্য চাঁদ দেখা জরুরী।

দুজন মুসলিম নতুন চাঁদের স্বাক্ষ্য দিলেই তা সমস্ত মুসলিমের জন্য মেনে নিতে হবে

(আব্দুর রহমান ইবনে যায়েদ রাঃ থেকে বর্ণিত) রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন,
"যদি তোমাদের দুজন স্বাক্ষ্য দেয় যে, তারা (নতুন) চাঁদ দেখেছে তাহলে তোমরা রোজা ও ঈদ পালন করো।"
নাসাঈ-২১১৬

একইরকম বক্তব্য সাহাবী আবদুল্লাহ বিন ওমর রাঃ ও দিয়েছেন।
আবু দাউদ-২৩৩১​

এই হাদিস থেকে বুঝা যায় যে, যদি দুজন মুসলিম রমাদান বা শাওয়াল মাসের নতুন চাঁদ দেখেছে বলে স্বাক্ষ্য দেয়, তাহলে তা সকল মুসলিমের জন্য প্রযোজ্য হবে। অর্থ্যাৎ দুজন মুসলিম নতুন চাঁদের স্বাক্ষ্য দিলেই তা অনুযায়ী সকল মুসলিম রোজা ও ঈদ পালন করবে। সকল মুসলিমের চাঁদ দেখা শর্ত নয়
 
Last edited:

Masud

MMI Adam
Staff member
Nov 10, 2019
181
6
18
Saudi Arabia
সকল মুসলিমদের বোঝানো হয়েছে

(আবু হুরাইরাহ রাঃ থেকে বর্ণিত) রাসুল সাঃ বলেছেন,

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ الصَّوْمُ يَوْمَ تَصُومُونَ وَالْفِطْرُ يَوْمَ تُفْطِرُونَ وَالأَضْحَى يَوْمَ تُضَحُّونَ...

" যেদিন তোমরা রোজা পালন কর সেদিন হলো রোজা। যেদিন তোমরা ঈদুল ফিতর পালন কর সেদিন হলো ঈদুল ফিতর আর যেদিন তোমরা ঈদুল আযহা পালন কর সেই দিন ঈদুল আযহা। "
তিরমিযী-৬৯৫, ইবনে মাজাহ-১৬৬০​

এই হাদিস থেকে বুঝা যায় যে, এখানে তোমরা বলতে সকল মুসলিমদের বুঝানো হয়েছে। এই হাদিসে "ইয়াওমা" শব্দটি একবচন, যার অর্থ একদিন। আর হাদিসে "আন্নাসু" শব্দটি "ইনসান" শব্দের বহুবচন হওয়ায় সকল মানুষ তথা সকল মুসলিমদের বোঝানো হয়েছে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন,
يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ ٱتَّقُوا۟ رَبَّكُمُ....
"হে মানবজাতি তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো..."
সূরা নিসা-১​

এই আয়াতটিতে "আন্নাসু" শব্দটির দ্বারা সকল মানুষকে বুঝানো হয়েছে। ঠিক তেমনিভাবে হাদিসটিতেও "আন্নাসু শব্দটি দ্বারা সকল মানুষকে বুঝানো হয়েছে। অর্থ্যাৎ হাদিসটিতে বলা হয়েছে যে, সকল মানুষ একই দিনে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা পালন করবে। যদি ভিন্ন ভিন্ন দিনে ঈদুল ফিতর বা ঈদুল আযহা পালন করা শারীআহ'র বিধান হতো তাহলে রাসূলুল্লাহ সাঃ "ইয়াওমা" শব্দটি অর্থ্যাৎ একবচন এর পরিবর্তে "আইয়্যাম" বহুবচন শব্দ ব্যবহার করতেন। কিন্তু, রাসূলুল্লাহ সাঃ "ইয়াওমা" শব্দটি একবচন ব্যবহার করার মাধ্যমে প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, সকল মুসলিমকে একই দিনে সিয়াম ও ঈদ পালন করতে হবে।

লায়লাতুল কদর একাধিক একাধিক রাত নয়

শবেকদর সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
إِنَّآ أَنزَلْنَٰهُ فِى لَيْلَةِ ٱلْقَدْرِ
"আমি কুরআন নাযিল করেছি শবে-কদরে।"
সূরা ক্বদর-১​

আয়াতটিতে লক্ষ করুন আল্লাহ তায়ালা এখানে লাইলুন(লাইলাতিল) একবচন ব্যবহার করেছেন যার অর্থ একটি রাত। অর্থাৎ পৃথিবীতে লাইলাতুলকদর হবে একটি রাতেই! অথচ এখন বিশ্বব্যাপী লাইলাতুলকদর হয় কয়েক দিনে! কিন্তু কেন!?
 
Last edited:

Masud

MMI Adam
Staff member
Nov 10, 2019
181
6
18
Saudi Arabia
রমজান বা ঈদের চাঁদ পৃথিবীর যেখানেই দেখা যাকনা কেন, সেই সংবাদের ভিত্তিতেই রোজা বা ঈদ করতে হবে

(ইবন উমার রাঃ হতে বর্ণিত) তিনি বলেন,
"একদা লোকেরা রামাযানের চাঁদ অন্বেষণ করে, কিন্তু দেখতে পায়নি। পরে এক ব্যক্তি রাসূল সাঃ কে এরূপ খবর দেয় যে, সে চাঁদ দেখেছে। এরপর তিনি রোযা রাখেন এবং লোকদেরকেও রোযা রাখার নির্দেশ দেন।"
আবু দাউদ-২৩৩৫

(ইকরিমা রহঃ হতে বর্ণিত) তিনি বলেন,
"একদা সাহাবীগণ রামাযানের চাঁদ দেখার ব্যাপারে সন্দিহান হন। তাঁরা তারাবির নামায আদায় করার এবং (পরদিন) রোযা না রাখার ইচ্ছা করেন। এমতাবস্থায় হাররা নামক স্থান হতে জনৈক বেদুঈন আগমন করে সাক্ষ্য দেয় যে, সে চাঁদ দেখেছে। তাকে রাসুল সাঃ এর নিকট আনয়ন করা হয়। রাসুল সাঃ সাঃ জিজ্ঞাসা করেন, তুমি কি সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল? সে বলে, হ্যাঁ এবং আরও সাক্ষ্য দেয় যে, সে নতুন চাঁদ দেখেছে। তিনি বিলালকে নির্দেশ দেন যে, সে যেন লোকদের জানিয়ে দেয়, যাতে তারা তারাবীহ্ নামায আদায় করে এবং পরদিন রোযা রাখে।"
আবু দাউদ-২৩৩৩​

এ ব্যাপারে রাসুল সাঃ থেকে অসংখ্য হাদিস রয়েছে যেগুলো থেকে পরিষ্কার বোঝা যায়, রাসুল সাঃ নিজে অন্য স্থানের চাদের সংবাদ গ্রহন করেছেন। সুতরাং, কোন আলেম কি বললেন সেটা না শুনে চাদের সংবাদ পেলেই রোজা রাখুন ইহাই সুন্নাত।
 
Last edited:

Masud

MMI Adam
Staff member
Nov 10, 2019
181
6
18
Saudi Arabia
পৃথিবীর কোথাও নতুন চাদের সংবাদ পেলেই মাস গননা শুরু করতে হবে

(আবূ উয়াইমির ইবনু আনাস ইবনু মালিক রহঃ থেকে বর্ণিত) তিনি বলেন,
"রাসূল সাঃ -এর সহাবী এবং আনসার সম্প্রদায়ভুক্ত আমার এক চাচা আমার নিকট বর্ণনা করেন, মেঘের কারণে আমরা শাওয়ালের নতুন চাঁদ দেখতে পাইনি। আমরা (পরের দিন) রোযা রাখলাম। দিনের শেষভাগে একটি কাফেলা রাসুল সাঃ -এর নিকট এসে গতকাল চাঁদ দেখার সাক্ষ্য দিলো। রাসূল সাঃ লোকেদেরকে ইফতার (রোযা ভঙ্গ) করার এবং পরের দিন ঈদগাহে যাওয়ার নির্দেশ দেন।"
নাসায়ী-১৫৫৭, আবূ দাউদ-১১৫৭
উক্ত হাদিস থেকে স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে যে, রোজা রাখা অবস্থায় পরবর্তী দিনেও যদি নতুন চাঁদের সংবাদ শোনা যায় তবে তা গ্রহন করে রোজা ভেঙ্গে ফেলতে হবে। একই ভাবে রোজা না রাখা অবস্থায় পরবর্তী দিন রমজানের নতুন চাঁদের সংবাদ শোনা যায় তবে তা গ্রহন করে দিনের বাকি অংশ পানাহার থেকে বিরত থাকতে হবে।
(এ ব্যাপারে সকল ফুকাহায়ে কেরামগণ একমত)


(ইবন উমার রাঃ হতে বর্ণিত) তিনি বলেন,
"একদা লোকেরা রামাযানের চাঁদ অন্বেষণ করে, কিন্তু দেখতে পায়নি। পরে এক ব্যক্তি রাসূল সাঃ কে এরূপ খবর দেয় যে, সে চাঁদ দেখেছে। এরপর তিনি রোযা রাখেন এবং লোকদেরকেও রোযা রাখার নির্দেশ দেন।"
আবু দাউদ-২৩৩৫

(হুসায়ন ইবন আল হারিস আল জাদলী থেকে বর্ণিত) একদা মক্কার আমীর খুতবা প্রদানের সময় বলেন,
"রাসূল সাঃ আমাদের প্রতি নির্দেশ প্রদান করেন যে, আমরা যেন শাওয়ালের চাঁদ দেখাকে ইবাদত হিসাবে গুরুত্ব দেই। আর আমরা স্বচক্ষে যদি তা না দেখি তবে দু‘জন ন্যায়পরায়ন লোক এ ব্যাপারে সাক্ষ্য প্রদান করলে তখন আমরা যেন তাদের সাক্ষ্যের উপর নির্ভর করি। তখন প্রশ্নকারী (আবূ মালিক) আল হুসায়ন ইবন আল হারিসকে মক্কার আমীরের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করেন যে, তার নাম কী? তিনি বলেন, আমি জানি না। কিছুক্ষণ পরে আবার আমার সাথে সাক্ষাত করে তিনি বলেন, তাঁর নাম আল হারিস ইবন হাতিব, যিনি মুহাম্মদ ইবন হাতিবের ভাই। এরপর আমীর বলেন, তোমাদের মধ্যে আমার চাইতে যিনি অধিক জ্ঞানী , আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূল সম্পর্কে তিনি এ বিষয়ে সাক্ষ্য প্রদান করেছেন? এরপর তিনি এক ব্যক্তির প্রতি ইশারা করেন। হুসায়ন বলেন, আমি আমার পাশ্ববর্তী একজন শায়খকে জিজ্ঞাসা করি, এই ব্যক্তি কে যার প্রতি আমীর ইশারা করলেন? তিনি বলেন, ইনি আবদুল্লাহ ইবন উমার (রাঃ) আর তিনি সত্য বলেন যে, তাঁর (আমীরর) চাইতে তিনি (আবদুল্লাহ ইবন উমার) আল্লাহ্‌ সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী ছিলেন। তখন তিনি (আবদুল্লাহ ইবন উমার ) বলেন, রাসূল সাঃ আমাদেরকে এরূপ করতে নির্দেশ প্রদান করেন। (অর্থাৎ নতুন চাঁদ দেখার সাক্ষ্য প্রদান গ্রহণ করতে বলেছেন)"

উক্ত হাদিস থেকে স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে যে, পৃথিবীর কোথাও নতুন চাদের সংবাদ পেলেই মাস গননা শুরু করতে হবে।
 
Last edited:

Masud

MMI Adam
Staff member
Nov 10, 2019
181
6
18
Saudi Arabia
সারাবিশ্বে একই দিনে সিয়াম ও ঈদ পালন নিয়ে বিভিন্ন মাজহাবের ফতুয়া
হানাফী ফিকহের বক্তব্য
(১) হানাফি মাযহাবের বিশ্ব বিখ্যাত ও সর্বজন বিদিত ফিকহ্ গ্রন্থ “ফতহুল কাদির”-এর ভাষ্য হচ্ছে-
“যখন কোন শহরে চাঁদ দেখা প্রমাণিত হবে, তখন সকল মানুষের উপর রোযা রাখা ফরয হবে। ফিকহের প্রতিষ্ঠিত মাযহাব অনুযায়ী পাশ্চাত্য বাসীর চাঁদ দেখার দ্বারা প্রাচ্য বাসীর জন্য রোযা রাখা ফরয হবে।”
— (ফতহুল কাদির, খন্ড-২, পৃঃ-৩১৮) অথবা (ফতহুল কাদির, খন্ড-৪, পৃঃ-২১৬)

এছাড়াও, হানাফী মযহাবের বাকি ফিকহি বই গুলো “ফাতওয়া-ই- আলমগিরী” “ফাতওয়া-ই-শামী” “বাহরুর রায়েক” তাবয়ীনুল হাকায়েক, “হাশিয়া-ই-তাহতাবী” তে ও একই বক্তব্য রয়েছে।

(২) হানাফি বিখ্যাত গ্রন্থ “মায়ারিফুস্‌ সুনান”-এর ভাষ্য হচ্ছে-
“আমাদের মাযহাবের কিতাব সমূহের উপর ভিত্তি করে আমরা লিখেছি যে, এক দেশের চাঁদ দেখা অন্য দেশে গ্রহণীয় হবে। যদিও দেশ দুটির মধ্যে মাগরিব ও মাশরিকের দূরত্ব হয়। আর এ মাসয়ালা ফকীহ্‌গণের এ নীতিমালার উপর ভিত্তি করে যে চাঁদ উদয়স্থলের ভিন্নতা গ্রহণীয় হবে না। তবে ফকিহগণ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, নামায ও ইফতারের ওয়াক্ত সমূহের ভিন্নতা গ্রহণীয় হবে এবং যার যার স্থানীয় সময় অনুযায়ী নামায পড়বে ও ইফতার করবে”।
— (মায়ারিফুস্‌ সুনান, খন্ড-৫, পৃঃ-৩৩৭)

মালিকি ফিকহের বক্তব্য
(১) মালিকি মাযহাবের বিশ্ব বিখ্যাত ফিকহ্‌ গ্রন্থ “মুগনী”-এর সিদ্ধান্ত হচ্ছে-
قريبا او بعيدا وحكم من لم يره كمن راه ولو اختلفت المطالع
অর্থাৎ “কোন এক দেশের মানুষ চাঁদ দেখলে সকল দেশের মানুষের জন্যে রোযা রাখা জরুরী হবে। চাই সে দেশ কাছে বা দূরে হোক, আর যে চাঁদ দেখেনি সে শরীয়তের দৃষ্টিতে তারই মত আমল করবে যে দেখেছে। চাঁদ উদয়ের স্থান ও কাল ভিন্ন হোক (তাতে পার্থক্য নেই)” ।
(আল-মুগনী, খন্ড-৪, পৃঃ-১২২) অথবা (আল-মুগনী, খন্ড-৩, পৃঃ-১০)

(২) এছাড়া দেখুন আল-মুনতাকা-ফি শরাহিল মুয়াত্তা (খন্ড ২, পৃঃ ৩৭) অথবা (আল-মুনতাকা-ফি শরাহিল মুয়াত্তা ২য় খন্ড পৃঃ ১৫২)

হাম্বলী ফিকহের বক্তব্য
(১) ইমাম বাহুতি আল হাম্বলী (রহঃ এর “শরহে মুনতাহা আল ইরাদাত” কিতাবের ভাষ্য-
“যখন একটি শহরে চাঁদ দেখা প্রমানিত হয়, সকল মুসলিমের উপর সিয়াম রাখা বাধ্যতামূলক এই হাদীস অনুসারে ‘তোমাদের সবাই রোযা রাখ যখন এটাকে দেখবে’ এটা সমগ্র উম্মাতের প্রতি নির্দেশ” —(শরহে মুনতাহা আল ইরাদাত, খন্ড ৩, পৃ:৩০৭)

(২) চার মাযহাবের সমন্বিত ফিকহ গ্রন্থ “আল ফিকহ আলা মাযাহিবিল আরবায়া” নামক গ্রন্থের ভাষ্য হচ্ছে-
“পৃথিবীর কোন এক প্রান্তে চাঁদ দেখা প্রমাণিত হলে সকল স্থানেই উক্ত দেখার দ্বারা রোযা ফরয হবে । চাই চাঁদ নিকটবর্তী দেশে দেখা যাক বা দূরবর্তী দেশে দেখা যাক এতে কোন পার্থক্য নেই । তবে চাঁদ দেখার সংবাদ গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিতে অন্যদের নিকট পৌছতে হবে । তিন ইমাম তথা ইমাম আবু হানীফা রহমাতুল্লাহি আলাইহি, ইমাম মালেক রহমাতুল্লাহি আলাইহি এবং ইমাম আহমদ ইবনু হাম্বল রহমাতুল্লাহি আলাইহি- এর মতে চাঁদের উদয়স্থলের ভিন্নতা গ্রহণীয় নয় । অর্থাৎ প্রথম দিনের দেখার দ্বারাই সর্বত্র আমল ফরয হয়ে যাবে”
(আল ফিকহ আলা মাযাহিবিল আরবায়া, খন্ড-১, পৃঃ-৪৪৩) অথবা (আল ফিকহ আলা মাযাহিবিল আরবায়া, খন্ড-১, পৃঃ-৮৭১)

ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহঃ)

(১) ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) এর ভাষ্য-
يشمل كل من بلغه رؤية الهلال من اى بلد او اقليم من غير تحديد مسافة اصلا
অর্থাৎ “নব চাঁদ উদিত হওয়ার সংবাদ যতটুকু পৌঁছবে ততটুকু তার আওতাভূক্ত হবে। তা কিছুতেই দূরত্বের কারণে কোন দেশ, মহাদেশ বা অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকবে না”।
— (ফাতওয়ায়ে ইবনু তাইমিয়্যা, খন্ড-২৫, পৃঃ-১০৭)

(২) উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম আল্লামা রশীদ আহমদ গাংগুহী (রহঃ)-এর ভাষ্য-
“ফিকহের প্রতিষ্ঠিত মতানুসারে রোযা রাখা ও ঈদ করার ব্যাপারে চাঁদের উদয় স্থলের ভিন্নতা গ্রহণীয় নয়। প্রাচ্যবাসীর দেখা দ্বারাই পাশ্চ্যাত্যবাসীর উপর আমল জরুরী হবে।”
—[ফাতওয়া-ই-রশিদিয়া, পৃঃ-৪৩৭]

নাসিরউদ্দিন আলবানী
(১) Sheikh Nasir ud-Deen al-Albani espoused the view that the global sighting must be taken, he explained the term in the hadith-
صوموا لرؤيته …
“Do fast when you see it is sighted ...” was general to all Muslims, irrespective of locality.
[Al-Silsilah as-Saheeh, Vol 6, p. 123]
 
Last edited:

Masud

MMI Adam
Staff member
Nov 10, 2019
181
6
18
Saudi Arabia
বাংলাদেশের যখন সন্ধ্যা সাতটা তখন আমেরিকায় সকাল সাতটা, তাহলে কিভাবে সম্ভব পৃথিবীতে একই দিনে সিয়াম ও ঈদ পালন করা?
এই ভ্রান্তি নিরসন

কোরআন হাদিস ও ফিকাহ কিতাব থেকে দলিল দেওয়ার পর যখন আর কিছু বলার থাকে না তখন এক শ্রেণীর লোক আছে যারা শেষমেষ প্রশ্ন ছুড়ে দেন যে, বাংলাদেশের যখন সন্ধ্যা সাতটা তখন আমেরিকায় সকাল সাতটা, তাহলে কিভাবে সম্ভব পৃথিবীতে একই দিনে সিয়াম ও ঈদ পালন করা?

আগে এই প্রশ্নের সঠিক জবাব দেওয়া প্রয়োজন মনে করছি। কিভাবে সম্ভব সারা পৃথিবীতে একই দিনে ইসলামী দিবস পালন করা? আসুন এবিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক।

যেহেতু জ্যোতির্বিজ্ঞান প্রমাণ করে যে, মধ্যপ্রাচ্যেই সর্বপ্রথম নতুন চাঁদ উদয় হয় তাই মধ্যপ্রাচ্যের সাথেই আমরা অন্যান্য দেশের সময়ের হিসেব করে নেব।
মধ্যপ্রাচ্যের স্থানীয় সময়ের সবচেয়ে বেশী অগ্রগামী সময়ের দেশ জাপানবাসীর জন্য ১ম তারিখের রোযা রাখার সম্ভাব্যতা সর্বাধিক প্রশ্ন সাপেক্ষ। কিন্তু গবেষণায় সুপ্রমাণিত যে, ঐ দিন জাপানবাসীর জন্যও রোযা রাখা সম্ভব। যেমন বছরের সবচেয়ে ছোট রাত জুলাই মাসকেও যদি আলোচনায় আনা হয় তবে দেখা যাবে, জুলাই মাসে সর্ব শেষ সূর্যাস্ত হয় ৬টা ৫৫ মিনিটে। তাহলে মধ্য প্রাচ্যে সূর্যাস্তের পর পর সন্ধ্যা ৭টায় নুতন চাঁদ দেখা গেল। ঐ সময় পৃথিবীর সর্বপূর্ব স্থান জাপানে রাত ১টা ২৮ মিনিট। কারণ মধ্যপ্রাচ্য ও জাপানের মধ্যে অবস্থানগত দূরত্ব ৯৭ ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। ফলে স্থানীয় সময় মধ্য প্রাচ্যের স্থানীয় সময়ের চেয়ে ৬ঘন্টা ২৮মিনিট অগ্রগামী। তাহলে ফলাফল দাড়াল মধ্য প্রাচ্যে সন্ধ্যা ৭টায় চাঁদ দেখা গেলে জাপানে সে চাঁদ দেখার সংবাদ পৌঁছতেছে রাত ১টা ২৮ মিনিটে। অথচ জুলাই মাসে সাহরী খাওয়ার সর্বনিম্ন সময় হলো ৩টা ৪৩ মিনিট। তাহলে জাপানবাসী চাঁদ উদয়ে সংবাদ পাওয়ার পরেও রোযা রাখতে সাহরী খাওয়ার জন্য সময় পাচ্ছেন প্রায় ২ ঘন্টা ১৫ মিনিট। যা সাহরীর জন্য কোন বিবেচনায়-ই অপ্রতুল নয়। উপরন্ত ঐ সময়ের মধ্যে তারাবীর নামায আদায় করাও সম্ভব। আর পশ্চিমাঞ্চলীয় দেশের জন্য আমল করা কোন ভাবেই কষ্টকর নয়। কারণ যত পশ্চিমাঞ্চলীয় দেশের দিকে আসা হবে তারা চাঁদ উদয়ের সংবাদের পরে সাহরী খাওয়ার জন্য ততবেশী সময় পাবে।

আমরা তো সারাবিশ্বে একই সাথে সালাত আদায় করিনা তাহলে সিয়াম কেন একসাথে রাখবো?
এই ভ্রান্তি নিরসন

সালাত এবং ইফতারের সময় নির্ধারন হয় সূর্যের সাথে আর মাস গননা শুরু হয় চাদের সাথে। আর ইফতার করতে সূর্য ডুবে যাওয়ার সংবাদ গ্রহন যোগ্য নয়, কিন্তু মাস গননায় চাদ উদয়ের সংবাদ গ্রহন যোগ্য। তাই বিষয়টি বোঝাই যাচ্ছে সালাত বা ইফতারের সময় নিজ নিজ স্থান অনুযায়ী কিন্তু চাদের সংবাদ গ্রহন সার্বজনীন।
আরো ক্লিয়ার করে বললে, ঢাকা আর রাজশাহীর ইফতারের সময় ভিন্ন কিন্তু মাস গননায় চাদের হিসাব একই! একইভাবে সৌদি বা অন্যদেশ এবং বাংলাদেশের সালাত ও ইফতারের সময় ভিন্ন হলেও মাস গননায় চাদের হিসাব একই!

আমরা বাংলাদেশে যখন ইফতার করি তখন আমেরিকায় ভোর, আবার আমরা যখন সাহরী খাই তখন আমেরিকায় বিকাল, তাহলে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে একই দিনে আমল করা কি করে সম্ভব?
এই ভ্রান্তি নিরসন

অত্র পশ্নের উত্তর বুঝার জন্য দু’টি মৌলিক বিষয় গভীর ভাবে স্মরণ রাখতে হবে। যথাঃ
(১) চাঁদের তারিখ সংশ্লিষ্ট আমলগুলো সমগ্র পৃথিবীতে একই সময়ে অনুষ্ঠিত হবেনা। বরং একই দিনে (অর্থাৎ শুক্র, শনি, রবি...বুধ বা বৃহস্পতিবারে) এবং একই তারিখে অনুষ্ঠিত হবে।
(২) যেহেতু সব সময়েই মধ্যপ্রাচ্যের কোন না কোন দেশে সর্বপ্রথম নুতন চাঁদ দেখা যাবে তাই চাঁদের তারিখ নির্ভর সকল ইবাদাত পালনের ক্ষেত্রে পৃথিবীর যে কোন দেশের সময়ের হিসেব মধ্যপ্রাচ্যের স্থানীয় সময়ের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। বাংলাদেশ বা অন্য কোন দেশের সময়ের সঙ্গে নয়।

তাহলে মনে করা যাক, বৃহস্পতিবার দিবাগত সন্ধ্যা ৭টায় মধ্য প্রাচ্যে পবিত্র রমযানের চাঁদ দেখা গেল এবং প্রমাণিত হল শুক্রবার ১ রমযান। এখন সমগ্র বিশ্বে ১ রমযান হিসেবে শুক্রবারে রোযা রাখা যায় কিনা এটাই মূল বিবেচনার বিষয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় যখন মধ্য প্রাচ্যে চাঁদ দেখা গেল তখন ঐ চাঁদ দেখার সংবাদ ১৪২ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত সর্বপ্রথম সূর্যোদয়ের দেশ জাপানে পৌঁছবে জাপানের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টা ২৮মিনিটে। অথচ সাহরীর সর্বশেষ সময় সীমা কখনই ৩টা ৪৩মিনিটের নিম্নে আসেনা। তাহলে জাপানবাসী বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে চাঁদ উদয়ের সংবাদ শুনে শুক্রবারে রোযা রাখার জন্য সাহরী খেতে সময় পাচ্ছেন (৩:৪৩মিঃ - ১:২৮মিঃ) ২ঘন্টা ১৫মিনিট। এমনিভাবে ১২০ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত দেশ ইন্দোনেশিয়ার সুমবা, ফ্লোরেস, ফিলিপাইন, তাইওয়ান, চীনের শেংইয়াং, হাইলার, ইনহো, রাশিয়ার টালুমা, খরিনটস্কি, সুখানা এবং অলিনেক অঞ্চলে চাঁদ দেখার সংবাদ পৌঁছবে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টায়। ফলে বছরের সব চেয়ে ছোট রাতেও চাঁদ উদয়ের সংবাদ পাবার পরে শুক্রবার ১ রমযানের রোযা রাখতে সাহরী খাওয়ার জন্যে তারা সময় পাবে ৩ ঘন্টা ৪৩ মিনিট। অতএব তাদের জন্যে শুক্রবার রোযা রাখা সম্ভব। এরপরে ১০৫ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত দেশ তেলাকবেটং, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, লাওস, চীনের ইপিং, চেংটু, মোঙ্গলিয়া এবং রাশিয়ার মধ্য সাইবেরিয়ান অঞ্চলে চাঁদ দেখার সংবাদ পৌঁছবে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১১টায়। ফলে তারাবীহ ও সাহরীর জন্যে তারা সময় পাবে ৪ ঘন্টা ৪৩ মিনিট। তারপরে ৯০ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত দেশ বাংলাদেশ, ভুটান, চীনের লাসা, টুরপান, ফাইয়ুন, রাশিয়ার আবাজা অচিনিস্ক, নগিনস্কি অঞ্চলে চাঁদ দেখার সংবাদ পৌঁছবে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১০টায়। ফলে তারাবীহ ও সাহরীর জন্যে তারা সময় পাবে ৫ ঘন্টা ৪৩ মিনিট এভাবে ৭৫ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমায় অবস্থিত দেশ ভারতের দিল্লী, কাশ্মীর, কিরগিজিয়া, পূর্বপাকিস্তানে চাঁদ দেখার সংবাদ পৌঁছবে ঐরাত ৯টায় এবং ৬০ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমায় অবস্থিত দেশ পাকিস্তানের করাচী, আফগানিস্তান, পূর্ব ইরান, তুর্কমেনিস্তান, উজবেকিস্তানে চাঁদ দেখার সংবাদ পৌঁছবে ওখানকার স্থানীয় সময় রাত ৮টায়। তাহলে প্রমাণিত হল মধ্যপ্রাচ্য থেকে শুরু করে জাপান পর্যন্ত পূর্ব গোলার্ধের সকল দেশে শুক্রবার ১ রমযান রোযা রাখা সম্পূর্ণ সম্ভব।

এবার পশ্চিমাঞ্চলীয় দেশ নিয়ে আলোচনা করা যাক। ৪৫ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত মধ্যপ্রাচ্যে যখন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় রমযানের চাঁদ দেখা গেল তখন ৩০ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত দেশ দক্ষিন আফ্রিকার ডারবান, জিম্বাবুই, জাম্বিয়ার বেলা, তানজানিয়ার বরুনডি, সুদান, মিসর, তুরস্কের বুরসা, ইউক্রেন এবং রাশিয়ার লেলিন গ্রাদ ইত্যাদি অঞ্চলে উক্ত চাঁদ দেখার সংবাদ পৌঁছবে ঐ অঞ্চল সমূহের স্থানীয় সময় বিকাল ৬টায়। ফলে চাঁদ উদয়ের সংবাদ পাবার পরে শুক্রবার ১ রমযানের রোযা রাখতে তারা সময় পাবেন ৯ ঘন্টা ৪৩ মিনিট। এমনি ভাবে ১৫ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত দেশ সমূহে চাঁদ দেখার সংবাদ পৌঁছবে বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায়। ০ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত দেশ টগো, মালি, আলজেরিয়ার রেগান, ওরান, স্পেনের ভ্যালেনসিয়া, ফ্রান্সের বদৌস ও প্যারিস এবং লন্ডন অঞ্চল সমূহে চাঁদ দেখার সংবাদ পৌঁছবে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায়। আরো পশ্চিমে ১৫ডিগ্রী পশ্চিম দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত দেশ সেনেগাল, মৌরতানিয়ার নৌয়াকচট, পশ্চিম সাহারা, পূর্ব আইসল্যান্ড ইত্যাদি অঞ্চলে চাঁদ দেখার সংবাদ পৌঁছবে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায়। এমনি করে ৩০ডিগ্রী পশ্চিম দ্রাঘিমায় দুপুর ২টায়, ৪৫ডিগ্রী পশ্চিম দ্রাঘিমায় দুপুর ১টায়, ৬০ডিগ্রী পশ্চিম দ্রাঘিমাংশে পূর্ব আর্জেটিনায়, প্যারাগুয়ে, মধ্য ব্রাজিলে, পূর্ব ভেনিজুয়েলায়, পূর্ব কানাডায় এবং পশ্চিম গ্রীনল্যান্ডে চাঁদ দেখার সংবাদ পৌঁছবে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায়। এমনি করে ৭৫ডিগ্রী পশ্চিম দ্রাঘিমায় সংবাদ পৌঁছবে বেলা ১১টায়। ৯০ডিগ্রী পশ্চিম দ্রাঘিমায় সংবাদ পৌঁছবে বেলা ১০টায়। ১০৫ডিগ্রী পশ্চিম দ্রাঘিমার দেশ সমূহ মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্রের আলবুক্‌য়ার্ক, ডেনভার, সিয়েন, মাইলস্‌ সিটি এবং মধ্য কানাডীয় অঞ্চলে চাঁদ দেখার সংবাদ পৌঁছবে এসব অঞ্চলের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায়। এমনি ভাবে সর্বশেষ ১৮০ডিগ্রী পশ্চিম দ্রাঘিমার দেশ যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ, আলিউটিয়ান দ্বীপপুঞ্জে চাঁদ দেখার সংবাদ পৌঁছবে সেখানের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোর ৪টায়। এবং উল্লেখিত সকল দ্রাঘিমায় অবস্থিত দেশ সমূহের অধিবাসীরা জানবে যে, মধ্য প্রাচ্যে বৃহস্পতিবার দিবাগত সন্ধ্যা ৭টায় নুতন চাঁদ দেখার কারণে ১ রমযান হচ্ছে শুক্রবার।

অতএব, মধ্যপ্রাচ্য থেকে পশ্চিম দ্রাঘিমার দেশগুলো যথাক্রমে বৃহস্পতিবার দিনের অংশ ও পূর্ণদিন অতিক্রমের পরে স্থানীয় ভাবে যে দেশে যখন শুক্রবার শুরু হবে সে দেশে তখন শুক্রবারে ১ রমজানের রোযা পালন করবে। তাহলে প্রমাণিত হল মধ্যপ্রাচ্য থেকে শুরু করে পশ্চিম গোলার্ধের সকল দেশে শুক্রবার ১ লা রমজান রোযা করা সম্পূর্ণ সম্ভব। আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা'য়ালা আমাদেরকে সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন।
 

Masud

MMI Adam
Staff member
Nov 10, 2019
181
6
18
Saudi Arabia
আমাদের কিছু প্রশ্ন
মহাবিশ্বে মানবের জন্য নিস্পাপ, চিরশান্তি, রহমত, মাগফেরাত ও নাজাত পাওয়ার মহা সুযোগ রামাদান। দূঃখের বিষয়ঃ কেউ পালন করে পৃথিবীর প্রথম উদয় কৃত চাঁদ হিসাবে। কেউ বা ২৪ ঘন্টা পর নিজ এলাকায় ভাসমান চাদ দেখে। অনেক সময় ৪৮ ঘন্টা পরও রামাদান পালন করতে দেখা যায়। তাই যদি হয় তবে রামাদান মাস ২/৩ টি হয়ে গেল।

সমস্যাঃ ১। আল্লাহ পাক ২৭শে রামাদানে শবে কদর দিলে প্রথম পালন কারিদের সেই দিন যদি শুক্রবার হয়। দ্বিতীয় পালন কারি দলের ২৪ ঘন্টা পর অর্থাৎ পরের দিন শনিবার। তৃতীয় পালন কারি দল থাকে তাদের (৪৮ ঘন্টা পর) রবিবার।

প্রশ্নঃ শবে কদর কোন দল পাবে? নাকি প্রতি ২৭শে সকলেই পাবে? ১০ই মহরম শুক্রবার কিয়ামত হলে কোন চাঁদের হিসাবে হবে? নাকি যাদের ১০ই মহরম শুক্রবার শুধু সেখানেই হবে? বাকিরা সব পার পেয়ে যাবে?

সমস্যাঃ ২। কোনো এক ব্যাক্তি বাংলাদেশ থেকে কয়েকটি রামাদান পালন করে সৌদি গিয়ে বাকি রামাদান ও ঈদ উৎযাপন করলেন। সেই বৎসর সব যায়গায় ২৯শে রামাদান। উক্ত ব্যাক্তির রামাদান হলো ২৮টি। দ্বিতীয় এক ব্যাক্তি পরের বছর সৌদী থেকে প্রথম দিকে কয়েকটি রামাদান পালন করে বাংলাদেশে এসে বাকি রামাদান ও ঈদ উৎযাপন করলেন। সেই বছর ৩০শে রামাদান হলে দ্বিতীয় ব্যাক্তিটির রামাদান হলো ৩১টি।

প্রশ্নঃ কোন দলিলে রামাদান ২৮টি বা ৩১টি?
 

Masud

MMI Adam
Staff member
Nov 10, 2019
181
6
18
Saudi Arabia
সবশেষে একটি রম্য দিয়ে শেষ করা যাক!

লোকাল-গ্লোবালঃ কাল্পনিক দেশ ও ভিন্ন চাঁদ (সংগ্রহীত)
২০২৮ সালে দেশ বিভক্তি হয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে দুর্দান্ত লড়াই করে বার্মার সহযোগিতায় জনৈক নেতার নেতৃত্বে 'নোয়াখালী ' স্বাধীন হয়েছে। (স্যরি, নোয়াখালী দেশের 'লোকালি ও গ্লোবালি' বন্ধুরা!) জাতিসংঘের স্বীকৃতি পেয়েছে।

'নোয়াখালী' আগে ছিলো বাংলাদেশের একটি আন্তঃজেলা। এখন আলাদা রাষ্ট্র। নতুন সীমানা। নতুন পতাকা। নতুন রাজা। নতুন সৈনিক। সবই নতুন! কিন্তু প্রজাকুল পুরাতন। ভাষাও সেই আগেরটাই।

রমজান মাস আসন্ন। স্বাধীনের পর প্রথম রমজান। ২৯ শাবান সন্ধ্যায় বসেছে 'হেলালকমিটি'। নাহ, নোয়াখালীর আকাশে কোথাও চাঁদ দেখা যায়নি। এদিকে বাংলাদেশের ঢাকা ও চিটাগাং থেকে সংবাদ প্রচার হচ্ছে, বাংলাদেশের আকাশে 'রমজানের চাঁদ' দেখা গেছে। রেডিও থেকে ঘোষণা করা হচ্ছে, আগামীকাল পহেলা রমজান। রোজা রাখুন!

নোয়াখালীর মজনু মিঞা ভিসা নিয়ে চিটাগাং গিয়েছিলো ব্যবসার সুবাদে। ২৯ শাবান সন্ধ্যে ফিরার সময় নোয়াখালীর কাছাকাছি এসে সেও রমজানের চাঁদ দেখে ফেলেছে। দেশে এসে সংবাদ দিলো, আমি বাংলাদেশ থেকে চাঁদ দেখে এসেছি।

নোয়াখালীর বিশ্বস্ত হেলালকমিটি সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিল, "আগামীকাল পহেলা রমজান নয়, নোয়াখালীর আকাশে কোথাও চাঁদ দেখা যায়নি। দেশভিন্নতার কারণে বাংলাদেশের চাঁদ নোয়াখালীর জন্য প্রযোজ্য হবে না!"

ঘোষণা শুনে মাজনু মিঞা পড়েছে মহা বিপাকে। যেহেতু সে মাসআলা জানে না।

মহব্বত আলি ওরফে মৌব্বা তার ভাই শইপ্যা। কৃষক মানুষ। দুইভাইয়ের পৈতৃক বসতি বাড়ির মাঝখান দিয়ে নোয়াখালী-বাংলাদেশের সীমানা গেছে। ফলে একজনের ঘর বাংলাদেশে, আরেকজন ঘর পড়েছে নোয়াখালী। আহারে কী দুর্ভাগ্য!

দেশভিন্নতার কারণে, চাঁদ উদয়েরস্থল ভিন্নভিন্ন ধরবার কারণে মাঝেমাঝে একভাইয়ের পরিবার একদিন আগে রোজা রাখে, আরেক ভাইয়ের পরিবার একদিন পরে রাখে রোজা। একপরিবারের ইদ একদিন আগে আসে, আরেক পরিবারের ইদ হয় একদিন বাদে। অহ! কী এক জটিল সমীকরণের পড়েছে দু পরিবার!

ইদানীং নোয়াখালীতে নতুন আরেকটি সংবাদ হাওয়ায় ভাসছে। নোয়াখালীর বর্তমান রাজার কৃতকর্ম ও জুলুমবাজির কারণে তার ওপ বেজায় চটেছে নোয়াখালীর বিভিন্ন থানার জনগণ। তারাও আলাদা স্বাধীনরাষ্ট্র চায়। আন্দোলন চালাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলে সাড়াও মিলছে। আভাস পাওয়া যাচ্ছে স্বাধীনতার!

স্বাধীন হয়ে গেলেই তো রোজা এবং ইদ নিয়ে বিপাকে পড়তে হবে রাষ্ট্রের জনগণকে। তাই এটাও কেউ কেউ বলছে, নাহ, থাক, আলাদা স্বাধীন রাষ্ট্রের দরকার নেই!
যেহেতু চাঁদের ভিন্ন তারিখ...

সৌদি থেকে রাত প্রায় এগারটায় হঠাৎ একবন্ধুর ফোন এলো রাশেদের মোবাইলে, ক্রিং... ক্রিং...ক্রিং...! ফোন রিসিভ করতেই শুনতে পেল ওপাশ থেকে হাউ-মাউ কান্না, আর বিকটশব্দের ভয়াবহ আওয়াজ।

-কী হলো রে দোস্ত?
-তাড়াতাড়ি তাওবা কর রে!
-কেনো?
-সৌদিতে আজ মহররমের ১০ তারিখ! কিয়ামত শুরু হয়ে গেছে।
-ওহহ দোস্ত, সমস্যা নেই, আমাদের বাংলাদেশে আজ মহররমের ৯ তারিখ, আজকের মধ্যেই তাওবা-তিল্লা কমপ্লিট করে আগামিকাল ১০ তারিখে কিয়ামতের জন্য তৈরি নিয়ে নিবো!
-ওকে দোস্ত! রাখিরে! বিদায়..
-ওকে!​