অভিবাদনের নিয়ম-পদ্ধতি

Tanvir

Administrator
Staff member
Nov 10, 2019
128
17
18
অভিবাদন জানাবো কীভাবে?

দৈনন্দিন জীবনে শিষ্টাচারের আলোচনায় প্রথমে আসে পরস্পরকে সম্ভাষণের বিষয়টি। তাই সালামের ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হয়। আপনি যখন ঘরে প্রবেশ করবেন কিংবা ঘর থেকে বের হবেন, তখন পরিবারের নারী-পুরুষ সবাইকে ইসলামী অভিবাদন السلام عليكم ورحمة الله وبركاته (আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু) বলবেন। অন্য কোনো অভিবাদন (যেমন-সুপ্রভাত, শুভসন্ধ্যা, গুড নাইট, গুড মর্নিং ইত্যাদি) ব্যবহার করবেন না। কারণ সালাম হলো ইসলামের চিহ্ন ও মুসলমানদের পরিচয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বাণী ও কর্মের মাধ্যমে তা শিক্ষা দিয়েছেন। সালামের পরিবর্তে অন্য কোনো বাক্য ব্যবহার করা ইসলামের একটি নিদর্শনকে বিলুপ্ত বা অবজ্ঞা করারই নামান্তর।

আল্লাহ এবং তার রাসূল আমাদের জন্য অভিবাদন জানানোর এমন একটি পদ্ধতি অনুমোদন ও নির্ধারণ করে দিয়েছেনÑ যা আমাদেরকে অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র করে দেয় এবং যা করলে আমাদের জন্য সাওয়াব লেখা হয়। বরং সেটিকে এক মুসলমান ভাইয়ের প্রতি অপর মুসলমান ভাইয়ের অধিকার বানিয়ে দিয়েছেন। এই অভিবাদন পদ্ধতিটি নিছক অভ্যাস থেকে একটি এমন আমলে পরিবর্তিত হয়েছেÑ যা বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ এবং রাসূলের নির্দেশ পালনার্থে করে। তাই এই মহান বরকতময় অভিবাদনকে পরিবর্তন করে অন্য কোনো সমঅর্থপূর্ণ শব্দাবলী দ্বারা অভিবাদন জানানো মুসলমানের জন্য কোনোভাবেই শুদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

সালামের গুরুত্ব :
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিশিষ্ট খাদেম হযরত আনাস রা. বলেনÑ আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেনÑ

يَا بُنَيَّ إِذَا دَخَلْتَ عَلَى أَهْلِكَ فَسَلِّمْ ، يَكُنْ بَرَكَةً عَلَيْكَ وَعَلَى أَهْلِ بَيْتِكَ

‘হে বৎস! যখন পরিবারের নিকট যাবে তখন তাদের সালাম দেবে। এটা হবে তোমার এবং তোমার পরিবারের জন্য বরকতের কারণ।’
বিশিষ্ট মনীষী তাবেয়ী হযরত কাতাদাহ রহ. বলেনÑ

إِذَا دَخَلْت بَيْتك فَسَلِّمْ عَلَى أَهْلك , فَهُمْ أَحَقّ مَنْ سَلَّمْت عَلَيْهِمْ

‘ঘরে প্রবেশ করে পরিবার-পরিজনকে সালাম দেবে। কারণ তারাই তোমার সালাম বা দুআ পাওয়ার বেশি হকদার।’
‘হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনÑ

إِذَا انْتَهَى أَحَدُكُمْ إِلَى الْمَجْلِسِ فَلْيُسَلِّمْ ، فَإِذَا أَرَادَ أَنْ يَقُومَ فَلْيُسَلِّمْ ؛ فَلَيْسَتْ الْأُولَى بِأَحَقَّ مِنْ الْآخِرَةِ

‘তোমাদের কেউ যখন কোনো মজলিসে উপস্থিত হয় তখন সে যেনো সালাম দেয়। তদ্রূপ যখন মজলিস থেকে বিদায় নেয় তখনও যেনো সালাম দেয়। কারণ প্রথম (সালাম) দ্বিতীয় (সালাম) থেকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ নয়।’

সালামের ফযীলত :

ইসলামের এই অভিবাদনের অনেক ফজিলত রয়েছে। এটি ইসলামের উত্তম জিনিসের মধ্য থেকে একটি। হাদীসে এসেছেÑ

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَجُلًا سَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّ الْإِسْلَامِ خَيْرٌ قَالَ تُطْعِمُ الطَّعَامَ وَتَقْرَأُ السَّلَامَ عَلَى مَنْ عَرَفْتَ وَمَنْ لَمْ تَعْرِفْ

‘আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রা. থেকে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রশ্ন করলেন ইসলামের কোন কাজটি সবচে ভালো? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনÑ খাবার খাওয়ানো এবং সালাম দেয়া পরিচিত-অপরিচিত সকলকে।’
সালাম মুসলমানদের মাঝে ভালোবাসা এবং হৃদ্যতা সৃষ্টি ও বৃদ্ধির কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

لَا تَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ حَتَّى تُؤْمِنُوا ، وَلَا تُؤْمِنُوا حَتَّى تَحَابُّوا أَوَلَا أَدُلُّكُمْ عَلَى شَيْءٍ إِذَا فَعَلْتُمُوهُ تَحَابَبْتُمْ ، أَفْشُوا السَّلَامَ بَيْنَكُمْ

‘তোমরা ঈমানদার না হওয়া পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, আর ঈমানদার হতে পারবে না পরস্পরে ভালোবাসা না হলে। তোমাদেরকে কি এমন একটি বিষয়ের কথা বলে দেবো না, যা করলে তোমাদের পরস্পরে ভালোবাসা সৃষ্টি হবে? তোমরা পরস্পরের মাঝে সালামের প্রসার ঘটাও।’
সালামের প্রত্যেক বাক্যে দশ নেকী, সালামে মোট তিনটি বাক্য আছে, সুতরাং যে পূর্ণ সালাম দেবে তার ত্রিশটি নেকী অর্জন হবে।

ইমরান ইবনে হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেনÑ এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এলো। অতঃপর বললোÑ আস্সালামু আলাইকুম, রাসূল তার উত্তর দিলেন, অতঃপর সে বসলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনÑ দশ নেকী, অতঃপর অন্য এক ব্যক্তি এলো। সে বললোÑ আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন, অতঃপর সে বসলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনÑ বিশ নেকী। অতঃপর আর একজন এলো। সে বললোÑ আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন এবং সে বসলো। রাসূল স. বললেনÑ ত্রিশ নেকী।’

অমুসলিমদের অভিবাদন :

বিধর্মীদের সাথে উঠা বসা এবং লেনদেনের ক্ষেত্রেও রয়েছে ইসলামের সুুনির্দিষ্ট নীতিমালা। কোনো বিধর্মীর সাথে সাক্ষাৎ হলে তাকে সালাম দেওয়া যাবে না। সালাম শুধু এক মুসলমান ভাই আরেক মুসলমান ভাইকেই দিতে পারে। তবে সে আগে সালাম দিয়ে ফেললে উত্তরে ‘ওয়া আলাইকুম’ বা ইয়াহদীকুমুল্লাহ’ অথবা ‘আসসালামু আলা মানিত্তাবাআল হুদা’ বলবে। তাদের সাথে সাক্ষাৎ হলে সৌজন্য প্রদর্শন স্বরূপ তার কুশলাদি জিজ্ঞাসা করে বা অন্য কোনোভাবে যেমন হাতের দ্বারা ইশারা করে কুশলবিনিময় করার অবকাশ রয়েছে। তাকে আদাব ও বলা যেতে পরে। তবে কোনো ভাবেই তাকে নমস্কার বা নমস্তে বলা যাবে না। [ফাতাওওয়ায়ে রহীমীয়া : ৬/১২৬; কিফায়াতুল মুফতী ৯/১০৬]